প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

অ্যাপলের সিইও পদ ছাড়ছেন টিম কুক

article-img

প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপলে দীর্ঘ ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে প্রধান নির্বাহীর (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান জন টার্নাস। 

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সাথে যুক্ত থাকা টার্নাস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, টিম কুক পদত্যাগ করলেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে একেবারে বিদায় নিচ্ছেন না। তিনি অ্যাপলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন ভূমিকা পালন করবেন।

২০১১ সালে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিম কুক। কুকের নেতৃত্বাধীন দেড় দশকে অ্যাপল অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। তার সময়ে অ্যাপল বিশ্বের প্রথম পাবলিক কোম্পানি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে এবং বর্তমানে এর বাজারমূল্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

কুক তার বিদায়ী বার্তায় টার্নাসকে একজন দূরদর্শী নির্বাহী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, টার্নাসের উদ্ভাবনী সত্তা এবং সততা অ্যাপলকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

নতুন সিইও জন টার্নাস অ্যাপলের প্রায় সব আধুনিক পণ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আইপ্যাডের প্রতিটি জেনারেশন, আইফোনের বিভিন্ন সংস্করণ এবং অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের সূচনায় তার অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ম্যাক কম্পিউটারে ইন্টেল প্রসেসর বদলে অ্যাপলের নিজস্ব সিলিকন চিপ ব্যবহারের রূপান্তরটি তার নেতৃত্বেই সফল হয়েছে। 

টার্নাস তার বিবৃতিতে টিম কুককে নিজের মেন্টর হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একজন হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞকে শীর্ষ পদে বসানোর মাধ্যমে অ্যাপল উদ্ভাবনের ধারায় নতুন গতি আনতে চাইছে। টিম কুকের অধীনে অ্যাপলের মুনাফা চারগুণ বাড়লেও নতুন ধরনের কোনো বৈপ্লবিক পণ্য (যেমনটি ছিল আইফোন) বাজারে না আসা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা ছিল। 

এখন জন টার্নাসের হাত ধরে ফোল্ডেবল ফোন, স্মার্ট গ্লাস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গভীর সমন্বয়ে নতুন কোনো চমক আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রযুক্তি বিশ্ব। তবে অ্যাপলের এই নতুন যুগে টার্নাসের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইফোনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস খুঁজে বের করা।